সিলেট ছাত্রলীগের গতি আনতে কর্মীসভা, ঘোষণা হতে পারে কমিটি

স্টাফ রিপোর্ট :: বহুদিন থেকে সিলেট ছাত্রলীগ ঝিমিয়ে আছে। জেলা ও মহানগর কমিটি কিংবা নির্ধারিত দায়িত্ব না থাকায় কেমন জানি ছন্দহীন হয়ে আছে সিলেট ছাত্রলীগের কার্যক্রম। কয়েক দফা জেলা ও মহানগর কমিটি স্থগিত এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরাগবাজন হওয়াতে খাপছাড়া খাপছাড়া হয়ে উঠেছিলো সিলেটের ছাত্রলীগ। জাতীয়, স্থানীয় অনুষ্ঠান কিংবা আন্দোলন গুলোতে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি নেতৃবৃন্দকে। কিন্তু সিলেট ছাত্রলীগের ইতিহাস একসময় সমৃদ্ধ ছিলো, বর্তমানেও আছে। কিন্তু আপাতত স্তিমিত তা অস্বীকার করতে পারেন না নেতৃবৃন্দ। গ্রপভিত্তিক ছাত্রলীগ নেতারা বেশ সক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগকে সক্রিয় ও মজবুত করতে সিলেট আসছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (১৩ মার্চ) সিলেটের রিকাবীবাজারস্থ নজরুল অডিটোরিয়ামে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য ও নেতৃবৃন্দের সাথে এক কর্মীসভা আহবান করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এই সভা থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কার্যকম গতিশীল করতে নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা কল্পনা আলোচনা চলছে।

একসময় সিলেটের ছাত্র আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলো সিলেট ছাত্রলীগ। ছাত্রনেতারা জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনায় আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে জেল-জুলুম ও নির্যতন ভয়কে পিছু ফেলে মাঠের রাজনীতিতে সরব ছিল এই সংগঠন। কিন্তু বর্তমানে কিছুটা স্তিমিত।

সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, কেলেঙ্কারী, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপবাদের সাথে যুক্ত হয়েছে এই সংগঠনের নাম। আলোচনায় এসেছে, তিরস্কৃত হয়েছে সংগঠন। বিলুপ্ত করা হয়েছে জেলা ও মহানগর কমিটি।

সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার আভাস পেলেও ঘোষণা হয়নি নতুন কমিটি। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেইনের দায়িত্বের সময়কালে বারবার চেষ্টা করেও নানা প্রতিবন্ধকতায় ব্যর্থ হয়েছেন নতুন কমিটি ঘোষণা করতে।

তবে, এবার সেই অচল অবস্থার পূণরাবৃত্তি দেখতে চায় না ছাত্রলীগ। নতুন কমিটির মাধ্যমে আবারও সক্রিয় ও সিলেট ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মাঠে সরব হতে চায় সংগঠনটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

নতুন কমিটিতে ত্যাগী এবং মেধাবীদের যুক্ত করে সেই ছাত্রলীগের সোনালী অতীতে ফিরতে চায় সিলেট ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, সিলেটে ছাত্রলীগের সক্রিয় কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। তারমধ্যে, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে সুরমা গ্রুপ, শফিউল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে দর্শণদেউরী গ্রুপ, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের নেতৃত্বে তেলিহাওর গ্রুপ, বিধান সাহার নেতৃত্বে কাশ্মির গ্রুপ, টিলাগড়ের আজাদ ও রনজিত গ্রুপ। এই গ্রুপগুলোকে সমন্বয় করেই ঘোষণা করা হবে নতুন কমিটি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বারবার ক্লিন ইমেজ ও ত্যাগী-মেধাবীদের মূল্যায়ন করার আভাস দেয়া হয়ে আসছে আগে থেকেই। সেই সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দলে ভূমিকা, শৃঙ্খলা, পারিবারিক পরিচিতিসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত হয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে যাওয়া সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম একাত্তরের কথার হাতে এসেছে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সভাপতি পদে নাম রয়েছে তেলিহাওর গ্রুপ থেকে জাওয়াদ খান, সুরমা গ্রুপ থেকে মুহিবুর রহমান, রনজিত গ্রুপ থেকে নাজমুল ইসলাম, কনক পাল অরুপ, শরীফ আরাফাত নাজাত, অসীম কান্তি কর, আজাদ গ্রুপ থেকে প্রমথ তালুকদার, কাওছার আহমদ, শফিক চৌধুরীর গ্রুপ থেকে বিপ্লব দাস।

জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদে নাম রয়েছে আজাদ গ্রুপ থেকে ফারহান সাদিক, এম এস রুবেল, তেলিহাওর গ্রুপ থেকে এম আর মুহিব, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য রাহেল সিরাজ, রনজিত গ্রুপ থেকে রাসেল আহমদ, নাজমুল ইসলাম রাহাত, রুবায়েল আহমেদ শাকিল, দেলোয়ার হোসেন রাহি, এ কে টুটুল।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সভাপতি পদে নাম রয়েছে আসাদ গ্রুপ থেকে শাহ আলম শাওন, হোসাইন মো. সাগর, রনজিত গ্রুপ থেকে সাদিকুর রহমান সাদিক, বিধান গ্রুপ থেকে সাদিকুর রহমান ও নাঈম আহমদ।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদে নাম রয়েছে আজাদ গ্রুপ থেকে সাদেকুর রহমান চৌধুরী, নাদেল গ্রুপ থেকে কিশোয়ার জাহান সৌরভ, সঞ্জয় পাশি জয়, আসাদ সমর্থিত গ্রুপ থেকে ময়দুল ইসলাম রাহাত, শাফায়াত খান, বিধান গ্রুপ থেকে মাহমুদুল হাসান সানি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এখনও সংগঠনের গ্রুপিং রয়েছে আগের মতোই। তবে, কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছন্দ হারিয়ে ফেলে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। এর প্রভাব পড়ে গোটা সিলেট অঞ্চলে। একই অবস্থা সংগঠনের মহানগর শাখায়। অভিযুক্ত হয়ে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর মহানগর কমিটি বিলুপ্ত হলে দেড় বছর পরও নতুন কমিটি পায়নি মহানগর ছাত্রলীগ। উভয় কমিটি দীর্ঘদিন কমিটিহীন থাকায় সাংগঠনিক শক্তিতে খেই হারিয়ে ফেলেছে এই সংগঠন।

তাই, সিলেট আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক বর্তমান নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন, সিলেট ছাত্রলীগের পুরাতন ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ত্যাগী ও মেধাবীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠিত হবে। সিলেট ছাত্রলীগ বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একাত্তরেরকথা/ইআ