গ্র্যান্ড নূরজাহানে মহা কেলেঙ্কারি

স্টাফ রিপোর্ট ::

যুক্তরাজ্য থেকে বৃহস্পতিবার সিলেটে আসেন এক প্রবাসী নারী (৩৩)। বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নগরীর দরগাহ গেইট এলাকার একটি বিলাসবহুল আবাসিক হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন তিনি। করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে ও স্বজনদের বাঁচাতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোয়ারেন্টাইনে থাকা স্বত্ত্বেও আবাসিক হোটেলের এক কর্মচারীর কুনজর থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি ওই নারী। যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। নূরজাহান গ্র্যান্ড হোটেলের শাহীন আহমদ (৩০) নামের এক হোটেল কর্মচারী ওই নারীর সাথে অশ্লীল আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, ঘটনার পর বিলাসবহুল ওই হোটেলের সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট বলে দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নগরীর দরগাহ গেইট এলাকার রিটজ টাওয়ারের নূরজাহান গ্র্যান্ড হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ আটক করে হোটেল কর্মচারী শাহীনকে। তিনি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার অলদারপুর গ্রামের আবু তাহিরের ছেলে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ। এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী প্রবাসী নারী বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় শাহীনের বিরুদ্ধে মামলা (নম্বর-৩) দায়ের করেছেন।
মামলা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাজ্য থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ৮৩ জন যাত্রী। অবতরণের পর তাদের প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। দুপুর ১২টায় নগরীর দরগাহ গেইট এলাকার হোটেল নূরজাহান গ্র্যান্ডের ৩য় তলায় ৩০৪ নম্বর রুমটি ভাড়া নেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার এক নারী। এ সময় ওই নারীর ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র তার রুমে পৌছে দেন হোটেলের কর্মচারী শাহীন আহমদ। এ সময় শাহীনের মনে কু-বাসনা জন্ম নেয়। সেই বাসনা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে রাত ১১টায় ওই প্রবাসী নারীর রুমের দরজায় কড়া নাড়েন লম্পট শাহীন। ওই নারী দরজা খুলে শাহীনকে দরজা নক করার কারণ জিজ্ঞেস করলে জোর করে রুমে প্রবেশ করে ওই নারীর সাথে অশ্লীল আচরণ করেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। এ সময় নিজেকে বাঁচাতে ধস্তাধস্তি করেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান হোটেল কর্মচারী শাহীন। প্রবাসী নারী তাৎক্ষণিক ফোনে ঘটনাটি তার ভাইকে জানান। এ সময় তার স্বজনেরা হোটেল নূরজাহানে আসেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে দরগাহ গেইট এলাকায় স্টার প্যাসিফিক নামের আরেকটি হোটেলে রুম ভাড়া করে কোয়ারেন্টাইনে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। রাত তখন সাড়ে ৩টা, হোটেল নূরজাহান গ্র্যান্ডের ৫ম তলার ক্যান্টিন থেকে আটক করা হয় হোটেল কর্মচারী শাহীন আহমদকে। এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে শাহীনকে একমাত্র আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবারই শাহীন আহমদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফরহাদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ নূরজাহান হোটেলে পৌছে অভিযুক্ত কর্মচারী শাহীনকে আটক করে। কোয়ারেন্টাইনে প্রবাসী নারীকে হয়রানীর ঘটনা সিলেট তথা পুরো বাংলাদেশে এটাই প্রথম। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। শুক্রবার শাহীনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তভার শাহজালাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সাঈদকে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার থানা এলাকার সকল হোটেলকে কড়া নির্দেশনা প্রদান করেছি, যাতে কোয়ারেন্টাইনে থাকাবস্থায় শুধু নারী নয়, কোনো ব্যক্তিই যেন হয়রানির শিকার না হয়। এ ধরণের কোনো অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান ওসি ফরহাদ।
এ ব্যাপারে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একাত্তরের কথা/ এমইউএ