ব্রিটেনের রেড লিস্টে বাংলাদেশ

৯ এপ্রিল থেকে প্রবেশ নিষেধ

ডেস্ক রিপোর্ট ::

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে বাংলাদেশিদের ব্রিটেনে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। ৯ এপ্রিল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। বাংলাদেশের সাথে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে পাকিস্তান, কেনিয়া এবং ফিলিপিন্সের নাগরিকরা। শুধু তাই নয় যেসব যাত্রী এই দেশগুলো থেকে ট্রানজিট করেছে তাদেরকেও ব্রিটেনে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে ব্রিটিশ সরকারের পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। ব্রিটেনে টিকাদান কর্মসূচি পুরো-দমে চলছে। তারই মাঝে কোভিড-১৯ ভাইরাসের নতুন ধরণ যাতে এদেশে ঢুকতে না পারে সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ওয়েবসাইটে জানানো হয়। শুক্রবার এ সংক্রান্ত বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য।

ব্রিটিশ কিংবা আইরিশ পাসপোর্টধারী যাত্রী, এবং যাদের ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি রয়েছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন না। তবে তাদেরকে সরকার অনুমোদিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ১০ দিন থাকতে হবে। বাংলাদেশ বা অন্য তিনটি দেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের কোন পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই বলে ব্রিটিশ সরকার জানাচ্ছে।

ব্রিটেনের এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ভোগান্তিতে পড়তে যাচ্ছেন স্টুডেন্ট ভিসায় গমনেচ্ছু বাংলাদেশিরা। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধে রয়েছেন। অনেকেই ভর্তি হয়ে গেছেন ব্রিটেনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এদের মধ্যে অনেকেরই ৯ এপ্রিলের পর টিকিট কাটা রয়েছে। ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞায় আপাতত তারাই বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৯ এপ্রিল ভোর চারটা থেকে ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, কেনিয়া ও বাংলাদেশের নাম নিষিদ্ধ দেশের ‘রেড লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই তালিকায় মোট ৩৯টি দেশের নাম রয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স ও কেনিয়া থেকে কোনো যাত্রী ৯ এপ্রিল ব্রিটিশ সময় ভোর ৪টার যুক্তরাজ্যে পৌঁছালে তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে। তবে তাকে নিজের বসবাস স্থলে ১০ দিন ‘সেলফ আইসোলেশনে’ থাকতে হবে। সেখানে পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় ও অষ্টম দিন দুই দফা কোভিড-১৯ পরীক্ষায় উৎরাতে পারলে, তবেই তাদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ সরকারের জয়েন্ট বায়োটেক সেন্টার। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিদিনই খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬,৮৩০ জন। এটিই হচ্ছে এ পর্যন্ত একদিনে শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বেশি সংখ্যা। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এ অবনতি নজরদারিতে রয়েছে ব্রিটেন সরকারেরও। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বাংলাদেশও ভ্রমণ কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব দেশ এবং আরও ১২টি দেশ থেকে যাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), যা শনিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে। এ নিষেধাজ্ঞা আপাতত ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। ইউরোপ ছাড়া অন্য দেশগুলো হলো- কুয়েত, লেবানন, কাতার, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, চিলি, জর্ডান, পেরু, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও উরুগুয়ে।

একাত্তরের কথা/ এমইউএ