হাওরে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকেরা

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: এবছর হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক আবহাওয়া আর শীষ কাঁঠাল নামক পোকার উপদ্রবে ফসলী জমি নষ্ট হয়ে গেছে। এসব উপেক্ষা করে দু:খ ভরা মনে বেদনা নিয়ে হাওরে ধান কাটতে নেমেছে কৃষকেরা।

বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভেড়াডহর ও ছায়ার হাওর ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা দুু:খ ভরা বেদনা নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন। তবে কৃষকদের ধান কাটা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জরুরী মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১ টায় উপজেলা হলরুমে শিক্ষক ও সুশীল সমাজ নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। কৃষকরা যেন সুন্দরভাবে হাওরের ধান ঘরে তুলতে পারেন সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন ইউএন আল মোক্তাদির হোসেন। 

তবে গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার উপজেলায় রোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হেরে গিয়ে কৃষকদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। পোকার উপদ্রবে অর্ধশত ভাগ জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হওয়ার পরও বাকী যেটুকু আছে সেগুলো এখন পাকতে শুরু করেছে। তাই এসব ধান ঘরে তুলতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক-কৃষাণিরা। তবে বাজারে ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দাম কমতে শুরু করায় ভরা মৌসুমে ধানের ন্যায মূল্য পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে কৃষকরা।

উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের প্রজেশ দাস  জানান, আমি ২০ কেয়ার জমি করেছি। এর মধ্যে ১০ কেয়ার জমি পোকায় খেয়ে ফেলেছে। আর এখন যেটুকু আছে সেগুলো পাকতে শুরু করেছে। আশা করছি দুয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবো। 

মুসাপুর গ্রামের সবুজ বৈষ্ণব জানান, তিনি ২কেয়ার জমি কেটেছেন। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর ফসল ভাল হয়েছিল। কিন্তু শীলাবৃষ্টি আর গরম বাতাসে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই দুই কেয়ার জমি কেটে তিনি ২০ মন ধান পেয়েছেন। তবে অন্যান্য বছর এই দুই কেয়ারে ৪৫ মন ধান পেতেন বলে তিনি জানান। শাল্লা উপজেলা কৃষি অফিসার একেএম মবিউজ্জামান চৌধুরী  জানান, চলতি বোরো মৌসুমে  উপজেলার ৪ ইউনিয়নে এবার ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া প্রতিকুলতার কারনে বোরো ধানের ফলনে বেশ ক্ষতি হয়েছে। আর এখন শীষ কাঠাল নামক একটি পোকা ফসলে আক্রমন করছে। তবে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। এই পোকার উপদ্রব থেকে ফসলকে রক্ষা করতে আমাদের মাঠকর্মী কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মোক্তাদির হোসেন জানান, হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বহিরাগত শ্রমিকদের সুবিধার জন্য কৃষকদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ধান কাটা নিয়ে আমাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতবিনময় সভা করেছি। আশা করছি ঠিক সময়ে কৃষকেরা ঘরে ধান তুলতে পারবেন।

একাত্তরের কথা/এমএইচ