শাবির মেডিকেল অনুষদ: পরীক্ষা চলবে লকডাউনেও

সাঈদ চৌধুরী টিপু ::

সিলেটে চলছিলো বাংলাদেশ ইমার্জিং নারী ক্রিকেট দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার ইমার্জিং নারী ক্রিকেট দলের ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ‘কঠোর লকডাউনে’র কারণে এক ম্যাচ আগেই রোববার সমাপ্তি টানা হয় সিরিজের। যদিও কঠোর লকডাউন শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার শেষ ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিলো। খেলা চলছিলোও ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে’। কিন্তু তারপরও সিরিজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। শুধু খেলা নয় করোনা সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তার এড়াতে কঠোর লক ডাউনের কারণে আজ থেকে সারা দেশে সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ার কথা। খুব জরুরি না হলে ঘর থেকে বেরোনো নিষেধ। ব্যাংক-অফিস বন্ধ, গণপরিবহন বন্ধ। জরুরি পরিবহন ছাড়া যানবাহনের চাকা ঘুরবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, বন্ধ সব ধরনের পরীক্ষাও। ব্যতিক্রম কেবল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) মেডিকেল অনুষদ। তারা এই লকডাউনের মাঝেও তাদের অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ফাইনাল প্রফের (শেষ পেশাগত পরীক্ষা) লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করেছে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদ তাদের নিয়ন্ত্রাণাধীন একই পরীক্ষা স্থগিত করেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিলো ৪ এপ্রিল। তারা পরীক্ষা স্থগিত করে তারও এক মাস আগে- ৩ মার্চ, তখনও সংক্রমণ এতোটা ব্যাপক সংক্রমণ শুরু হয়নি।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যখন তুঙ্গে তেমনই পরিস্থিতিতে ৮ এপ্রিল থেকে শাবির অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ফাইনাল প্রফের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে তখন সারা দেশে প্রথম দফার লকডাউন চলছিলো। জরুরি কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সকল বিষয়েই সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিলো। এই লকডাউনের মাঝেই দুটো পরীক্ষা নেয় শাবির স্কুল অব মেডিকেল সায়েন্স। ৮ এপ্রিল ছিলো মেডিসিন প্রথম পত্রের পরীক্ষা আর ১১ এপ্রিল হয় মেডিসিন দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কেবলই অবনতি হতে থাকে। সংক্রমণ, মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙতে থাকে একের পর এক। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারকে নানা সুপারিশ দেয় তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেখানে প্রয়োজন ছাড়া সব কিছু বন্ধের সুপারিশ করে সেখানে উল্টো পথে হাঁটতে থাকে শাবির মেডিকেল অনুষদ। তারা পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তেই অটল থাকে।
পরিস্থিতির কেবলই অবনতি হতে থাকায় সরকার দ্বিতীয় দফা লকডাউন ঘোষণা করে। আজ থেকে শুরু হওয়া এক সপ্তাহে সে লকডাউন কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তবে এ দফায়ও পরীক্ষা নেবে শাবির মেডিকেল অনুষদ। কাল অনুষ্ঠিত হবে সার্জারির প্রথম পত্রের পরীক্ষা আর রোববার হবে একই বিষয়ের দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা।
সিলেটের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম একাত্তরের কথাকে বলেন, সময়মতো পরীক্ষা না নিলে সেশন জটের সৃষ্টি হবে। তাই পরীক্ষা না নিয়ে উপায় নেই। এসব বিবেচনা করেই হয়তো কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার দিনক্ষণ ঠিক করেছে। সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাইরের সংস্পর্শ এড়াতে সকল পরীক্ষার্থীকে হোস্টেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষাও করা হবে নিয়মিত। তিনি মনে করেন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। লকডাউনে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া যুক্তিযুক্ত কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বুঝবে। তিনি মনে করেন- বিশেষজ্ঞ মত নিয়ে ভেবেচিন্তেই হয়তো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডা. নাজমুল ইসলাম তথ্য দেন তার প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ১২৭ শিক্ষার্থী ফাইনাল প্রফে অংশ নিচ্ছে।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিকেল সায়েন্সের ডিন ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ময়নুল হক একাত্তরের কথাকে জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা পরীক্ষা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা তিন মাস ধরেই হোস্টেলে কোয়ারেন্টাইনে আছে। তারপরও সতর্কতার জন্য পরীক্ষার হলে ৬ ফুট দূরে দূরে পরীক্ষার আসন বসানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সময়মতো ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা না নিলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্কট তৈরি হবে। তখন চিকিৎসাব্যবস্থার উপরই চাপ পড়বে। এসব বিবেচনায়ই আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা আসে তবে সাথে সাথেই পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সিলেটে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেট দলের সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সিলেট থেকে ফেররা বেলায় যখন করোনা পরীক্ষা করা হয় তখন জানা গেলো এরই মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ৫ ক্রিকেটারের শরীরে বাসা বেঁধেছে করোনা ভাইরাস। তারা সময়মতো দলের সাথে দেশে ফিরতে পারেননি।

একাত্তরের কথা/ এমইউএ