যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে প্রথম স্থায়ী শহিদ মিনার হচ্ছে

জুয়েল সাদাত, যুক্তরাষ্ট্র :: আমরিকার মোটর সিটি খ্যাত মিশিগানে আমেরিকার কোন সিটি বা স্টেটে প্রখম বারের মত ভাষা শহিদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ হতে যাচ্ছে। গত ২৫ এপ্রিল হ্যামট্রামিক সিটির হাই অফিসিয়ালরা বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে জায়গা নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা প্রদান করেন।

হ্যামট্রামিক জেসম্যান পার্কে শহিদ মিনারটি স্থাপনের অনুমতি প্রদান করেন। হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিল ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদের সম্মাননার্থে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্বীকৃতির অংশ হিসেবে শহিদ মিনার স্থাপনের অনুমতি প্রদান করেন।

বাংলাদেশ কমিউনিটি অব মিশিগানের উদ্যোগে হ্যামট্রামিক শহরে শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে, এরই মধ্যে নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। ১৫ ফুট দৈর্ঘ্যর শহিদ মিনারটি প্রবাসী বাংলাদেশীরা সকলে মিলে তৈরী করবেন। এমনটিই জানান শহিদ মিনার বাস্তবায়নের নৈপথ্য থাকা ‘মিশিগান এক্সপ্রেস ট্রেন’ নামক জনপ্রিয় পেইজের নাজেল। বিভিন্ন সময় নানান ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠন শহিদ মিনার তৈরীর চেষ্টা করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এবার সকল প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ যৌথ ভাবে চেষ্টা করেছেন। সকল প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে মেয়র কারেন মাজেউস্কী (Mayor karen majewski) এবং সিটি ম্যানেজার কাটি অ্যাঙ্গেরির (City Manager Kathy Angerer) কে। সাথে সাথে আরও ধন্যবাদ জানান উদ্যেক্তারা,
কাউন্সিলম্যান কামরুল হাসান, কাউন্সিলম্যান নাইম চৌধুরী, কাউন্সিলম্যান সাদ আলমাসমারী, কাউন্সিলম্যান মোহাম্মদ আলসমিরি, ডাইরেক্টর অব কমিউনিটি সেফটি ম্যাক্স গারবারিনো (Max Garbarino), মেয়র পদপ্রার্থী কামাল রহমান, কাউন্সিলম্যান পদপ্রার্থী আরমানি সাদ, সাবেক কাউন্সিলম্যান আবু মুসা প্রমুখ। শহিদ মিনারটির স্থপতি হিসাবে আছেন টুনু ইসলাম, কমিউনিটি একটিভিস্ট সাংবাদিক জুয়েল সাদাত।

মিশিগানে ৭০ হাজার প্রবাসী বসবাস করেন। মিশিগানে বাংলাদেশ এভিনিউ রয়েছে, রয়েছে জাতির জনকের দুটো মূর‌্যাল। মিশিগান প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবী ছিল, স্থায়ী শহিদ মিনার, সকল প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহিদ মিনার স্থাপনের পক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২০২২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারীতে প্রথম বারের মত স্থায়ী শহিদ মিনারে মিশিগান বাসী পুস্প স্তবক অর্পন করতে পারবেন বলে জানান বদরুল হুদা নাজেল।

একাত্তরেরকথা/ইআ-০৪