মোদীকে হারালেন ‘দিদি’ও হারলেন

ডেস্ক রিপোর্ট:: সারা ভারতের চোখ ছিলো পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের দিকে। রাজ্যটির দখল নিতে স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মাঠে নেমেছিলেন। তবে পারেননি, হার মানতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। রাজ্যের দখল নিজের কাছেই রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বড় জয় পেয়েছে তার দল। রোববারের ভোট গণনায় জয়ী দলের নাম তৃণমূল কংগ্রেস। সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে দলটি। তবে নিজের দলকে বড় জয়ের দিকে এগিয়ে দিতে পারলেও নিজের আসনে পারেননি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে বহু নাটকীয়তার পর খবর এসেছে হেরে গেছেন মমতা। ফলে তৃণমূলের টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত হয়ে গেলেও প্রশ্ন উঠেছে দলের নেত্রী মমতা আবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন কি-না, তা- নিয়ে।
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, দল সরকার গঠন করলে এবং সেই দলের নির্বাচিত সদস্যরা যদি কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করে, সেক্ষেত্রে তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাবেন। তবে আইনি কিছু প্রক্রিয়া তাকে মানতে হবে। খবর ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের
ভারতীয় সংবিধানের ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশটির কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে তাকে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৫ বা তার বেশি। তাকে রাজ্যের বিধানসভার সদস্য হতে হবে। আর বিধানসভার সদস্য না হয়েও কেউ যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন, তবে তাকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যপালের অনুমতি নিতে হবে।
কেউ হেরে যাওয়ার পরও তার দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং দলের নির্বাচিত সদস্যরা যদি তাকে নেতা নির্বাচিত করেন, তাহলে তার মুখ্যমন্ত্রী হতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
তবে ভোটে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে ওই পদে বসার ১৮০ দিনের মধ্যে কোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। তা না পারলে ছেড়ে দিতে হবে পদ।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে দুটির ভোটগ্রহণ প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত রয়েছে। ফলে এর একটি আসনে ছয় মাসের মধ্যে জিতে এলেই মমতার মুশকিল আসান হতে পারে।

একাত্তরের কথা/এমএইচ