মাগফিরাতের পয়গাম

একাত্তর ডেস্ক:: শুরু হল নাজাতের দশক। শুরু হল ইতেকাফের মৌসুম। রহমত দিয়ে শুরু হয়ে নাজাত দিয়ে শেষ হচ্ছে রমজানুল মোবারক। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, আউয়ালুহু রাহমাতুন। প্রথম দশক রহমতের। আওসাতুহু মাগফিরাতুন। মাঝের দশক ক্ষমার। ওয়া আখিরুহু ইতকুম মিনান্নারি। শেষের দশক দোজখের আগুন থেকে মুক্তির। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খুল হাদিস মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) বলেন, মানুষ তিন ধরনের হয়। সে জন্য মাহে রমজানকেও তিন ভাগে ভাগ করে পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন আল্লাহতায়ালা।
এক ধরনের মানুষ হল গুনাহ থেকে মাসুম বা পাপমুক্ত, তারা হলেন নবী-রাসুল আলাইহিস সালাম। গুনাহ থেকে মাহফুজ বা নিরাপদ মানুষ হলেন সিদ্দিক শোহাদা সালেহিন। এদের ওপর রমজানের শুরু থেকেই রহমত বর্ষিত হয়।
আরেক ধরনের মানুষ-যারা আমলে সালেহ করে আবার নফসের তাড়নায় ছোটখাটো গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। তারা দশ দিন সিয়াম পালনের পর রমজানের উসিলায় ক্ষমা পেয়ে যায়। তৃতীয় ধরনের মানুষ হল, যারা গোনাহের সাগরে ডুবে আছে। তারা বিশ দিন সিয়াম পালন করে প্রভুর কাছে কান্নাকাটি করার ফলে মাফ পেয়ে যায়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মান সামা রামাদানা ঈমানান ওয়া ইহতিসাবান গুফেরা লাহু মা তাক্বাদ্দামা মিন জাম্বিহি। যে মানুষ আন্তরিকতার সঙ্গে রমজানের রোজাগুলো যথাযথ নিয়মে আদায় করল, আল্লাহতায়ালা তার অতীতের গোনাহগুলো মাফ করে দেবেন। (বুখারি)
সাধারণ নিয়ম হল, কেউ যদি মাস চুক্তিতে কারও কাজে নিয়োগ পায়, দশ দিন খাটার পর কোনো কারণে বাকি সময় কাজ করতে না পারলে সে পুরো মাসের বেতন পায় না। কিন্তু বিশ দিন খাটার পর কারণবশত বাকি দিন কাজ না করতে পারলে বড় হৃদয়ের মালিক হলে তাকে পুরো মসের বেতন দিয়ে দেয়।
আর আল্লাহর উদারতা এত বিশাল তা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। ‘ওয়া আখিরুহু ইতকুম মিনান্নারি’ আর শেষ দশক হল দোজখের আগুন থেকে মুক্তির। নাজাতের হাকিকত হল, শেষ দশ দিন ইতেকাফের দশক।
ইতেকাফ মানে কোনো স্থানে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখা। কারখানার শ্রমিক যেমন দাবি আদায়ে অবস্থান ধর্মঘট করে, তেমনি বান্দাও রমজানের শেষ দশকে নিজ ঘর ছেড়ে খোদার ঘরে গিয়ে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য পড়ে থাকে। কান্নাকাটি রোনাজারি করে নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে জান্নাতের নেয়ামতের সুসংবাদ লাভ করে ঈদের দিন ঘরে ফেরে।
হাদিস শরিফে আছে, ইতেকাফকারীর থেকে জাহান্নাম পাঁচশ বছরের দূরে চলে যায়। এর মানে হল, ইতেকাফকারীকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। আল্লাহ আমাদের বাকি নয়টি দিনের সিয়াম ও কিয়াম যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দিন।

একাত্তরের কথা/এমএইচ