তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে সুইডিশ পুলিশে অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
দেশবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে সুইডেন প্রবাসী বিতর্কিত সাংবাদিক তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ‘সুইডিশ পুলিশ অথরিটি’তে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ অভিযোগ দায়ের করেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি, অস্ট্রিয়া প্রবাসী মানবাধিকারকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সুইডেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, প্রকৌশলী হেদায়েতুল ইসলাম শেলী ও দালিল উদ্দিন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একটি ঘৃণ্য চক্র অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তাসনিম খলিল এই চক্রের অন্যতম সদস্য। লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান এই চক্রের প্রধান। তাদের পেছনে আছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা। এই অপপ্রচারের জন্য তারা বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালছে।
এম. নজরুল ইসলাম বলেন, তাসনিম খলিল বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। এই তথাকথিত সাংবাদিক সুইডেন বসে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সরকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তার নেত্র নিউজ নামের অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেল, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইসব অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। দেড় মাস ধরে আমরা এই অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ জন্য প্রমাণপত্র যোগাড় করতে গিয়ে আমাদের সময় লেগেছে। সুইডিশ পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার আর চলতে দেওয়া যায় না। আইনগতভাবেই এটা বন্ধ হওয়া দরকার। সুইডেনের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এটা আমরা এই দেশের আইনের দৃষ্টিতে এনেছি।
চলতি বছরের শুরুর দিকে কাতারভিত্তিক নিউজ চ্যানেল আল জাজিরায় প্রচারিত বিতর্কিত একটি প্রতিবেদনে সাক্ষাৎকার দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তাসনিম খলিল। তাসনিম খলিলের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে। তার বাবা খলিলুর রহমান কাসেমী ছিলেন সিলেটের একজন মুদ্রণ ব্যবসায়ী। পৌরবিপণীর কিংশুক মুদ্রায়ণ তাদের পারিবারিক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ছিলো। তাসনিম খলিলের মা নাজনীন খলিলও লেখালেখির সাথে জড়িত। তাসনিম খলিল এক-এগারোর সময় ডেইলি স্টারের সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি আটকও হন। পরে ২০০৭ সালে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান। রাজনৈতিক আশ্রয় নেন সুইডেনে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রবাসে থেকে তিনি রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। আল জাজিরায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাসনিম খলিল অভিযোগ করেছিলেন সিলেট নগরীতে বসবাসরত তার মাকে বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে করেছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।