লন্ডনে বাংলাদেশিসহ ৩ কিশোরী নিখোঁজ

ডেস্ক রিপোর্ট
এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক লন্ডন ও এর পাশের শহর থেকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে এক বাংলাদেশিও রয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কিশোরী হাফিজাহ সামিরা নিখোঁজ হয় গত বৃহস্পতিবার। সে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ডের সারা বোনেল গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ও পূর্ব লন্ডনের ইস্টহামের বাসিন্দা মাওলানা আবদুল করিম এবং আফিয়া বেগমমের মেয়ে। এর আগে গত ১ অক্টোবর শুক্রবার নিজ বাড়ি ক্যান্টাবেরি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় এন্ডিয়া নামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে। এ ঘটনার দু’দিন পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে এন্ডিয়ার কাজিন ১৬ বছর বয়সী ইজাবেল।
সামিরার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার স্কুল শেষ করে আর বাড়ি ফিরে আসেনি সামিরা। তাকে সর্বশেষ টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় দেখা গেছে। সামিরার নিখোঁজ সংবাদের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি সামিরার সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে ১০১ নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। হাফিজার স্কুল থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার হাফিজা স্কুলে আসে, ক্লাস করে। কিন্তু তারপর কী হয়েছে তারা বলতে পারে না।
হাফিজার ভাই জানান, তারা পরিবার থেকে হাফিজার মোবাইল ফোনে একটি ম্যাসেজ দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন- ‘যদি তুমি আমাদের এই ম্যাসেজ পড়ে থাকো তাহলে তুমি ফিরে আসো। যদি তুমি কোন বিপদের সম্মুখীন হও তুমি তোমার চারপাশের কারও কাছে সাহায্য চাও। তুমি কোথায় আছো জানলে আমরা তোমাকে নিয়ে আসতে পারবো।
হাফিজার নিখোঁজে তার পরিবারের মধ্যে বেশ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পাশের শহর কেন্ট থেকে আরও দুই কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায়। লন্ডনের নিকটবর্তী শহর কেন্ট থেকে দুই কিশোরীকে খুঁজে পাচ্ছে না তার পরিবার। কেন্টের গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, দুই কিশোরী যারা সম্পর্কে কাজিন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ দু’কিশোরীর একজনের নাম এন্ডিয়া, যার বয়স ১৫ বছর। এন্ডিয়াকে ১ অক্টোবর, শুক্রবার নিজ বাড়ি ক্যান্টাবেরি এলাকা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে এন্ডিয়ার কাজিন যার নাম ইজাবেল বয়স ১৬ বছর। তাকে ওয়েস্ট লন্ডনের হ্যারো এলাকা থেকে ৩ অক্টোবর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে কিশোরী দুজনের ছবি বিভিন্ন জায়গায় দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া এই কিশোরীদের নিখোঁজের সন্দেহে ৫৪ বছরের একজনকে নর্থ লন্ডন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, লন্ডন ও কেন্ট ছাড়াও তারা এই দুই কিশোরীকে খুঁজতে লিসেস্টার ও ডান্ডির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। আর তাদের এই অভিযানে মেট্রোপলিটন পুলিশের সাথে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের পুলিশও কাজ করছে। তদন্তকারী পুলিশ ইন্সপেক্টর টনি বেল বলছেন, আপাতত তাদের উদ্বিগ্নতা এই দুই কিশোরীর নিরাপত্তার বিষয়টি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের লন্ডনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এ কারণে তাদের সাথে খারাপ কিছু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।