নৌকায় যাত্রী শিবির-বিএনপি!

স্টাফ রিপোর্ট :: ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সিলেট বিভাগের ৪৪টি ইউপির প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। রোববার রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভায় এই তালিকা চূড়ান্ত হয়। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাজনীতির মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ইউপি নির্বাচনে না থাকায় নৌকার মনোনয়ন পাওয়া মানে বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত। তাই নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন স্থানীয় নেতারা। নিশ্চিত বিজয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নৌকায় উঠতে কোথাও কোথাও লড়াইয়ে নামেন বিএনপি, জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত অনেকেও। তৃণমূলের অভিযোগ, এর মধ্যে দুজন সফলও হয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তৃণমূলে।
অভিযোগ, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে উপজেলার দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যার হাতে নৌকা উঠেছে সেই ইকবাল হোসেন ইমাদ এক সময় জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইকবাল হোসেন ইমাদকে উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল হোসেন ইমাদ ২০০৬-২০০৭ সেশনে কোম্পানীগঞ্জ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে সদস্যপদ লাভ করেন।
অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছেন। সাবেক এ ইউপি সদস্য এক সময় উপজেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন। অবশ্য গেলো ইউপি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়েছিলেন আবদুল হামিদ। সেবার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক যুগ্ম-আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। সেবারও প্রার্থী হিসেবে টিকেছিলেন আবদুল হামিদ জয় না পেলেও আবার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে। আবদুল হামিদ ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনবার অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।
দুই প্রার্থীর মনোনয়নে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা কিছু বলতে রাজি নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীরা দলের মনোনয়ন পাওয়ায় তৃণমূল ভোটাররা হতাশ হয়েছেন।
এদিকে, সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেন ইমাদ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, যে ইকবাল হোসেন ইমাদ ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি অন্য একজন। যার বাড়ি বর্ণী এলাকায় এবং বর্তমানে যিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন। ইকবাল হোসেন ইমাদের ভাষ্য, তিনি ছাত্র শিবিরের ইমাদ নন। তিনি ২০০৫ থেকে লণ্ডনে ছিলেন। দেশে এসেছেন ২০১৬ সালে। ইমাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে।
সমালোচনার মুখে থাকা সহ রোববার রাতে সিলেট বিভাগের ৪৪ প্রার্থীকে বাছাই করে নেয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে যারা নৌকা প্রতীক পেয়েছেন তারা হলেন- সিলেটের সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ইসহাক, হাটখোলা ইউনিয়নে মোশাহিদ আলী, কান্দিগাঁও ইউনিয়নে মো: নিজাম উদ্দিন ও মোগলগাঁও ইউনিয়নে হিরণ মিয়া। বালাগঞ্জের পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নে মো. শিহাব উদ্দিন, বোয়ালজুড় ইউনিয়নে আনহার মিয়া, দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে ছহুল আব্দুল মুনিম, পশ্চিম গৌরিপুর ইউনিয়নে মো. আমিরুল ইসলাম মধু, বালাগঞ্জ ইউনিয়নে মো. জুনেদ মিয়া ও পূর্বগৌরিপুর ইউনিয়নে হিমাংশু রঞ্জন দাস। কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে মো. মুল্লুক হোসেন, তেলিখাল ইউনিয়নে মো. নূর মিয়া, ইছাকলস ইউনিয়নে এখলাছুর রহমান, উত্তর রনিখাই ইউনিয়নে ফয়জুর রহমান ও দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন ইমাদ।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছাতক ইউনিয়নে রঞ্জন কুমার দাস, কালারুকা ইউনিয়নে অদুদ আলম, ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নে গয়াছ আহমদ, খুরমা উত্তর ইউনিয়নে বিল্লাল আহমদ, খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নে আব্দুল মছব্বির, চরমহল্লা ইউনিয়নে মো. কদর মিয়া, দোলারবাজার ইউনিয়নে সায়েস্তা মিয়া, ইসলামপুর ইউনিয়নে আব্দুল হেকিম, জাউয়াবাজার ইউনিয়নে নূরুল ইসলাম ও গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাও ইউনিয়নে সুন্দর আলী। দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারাবাজার ইউনিয়নে মো. আব্দুল হামিদ, বাংলাবাজার ইউনিয়নে মো. মানিক মিয়া, লক্ষিপুর ইউনিয়নে আব্দুল কাদির, সুরমা ইউনিয়নে এম এ হালিম বীর প্রতীক, দোহালিয়া ইউনিয়নে আনোয়ার মিয়া আনু, পান্ডারগাও ইউনিয়নে আব্দুল ওয়াহিদ, বোগলাবাজার ইউনিয়নে মো. মিলন খান, নরসিংপুর ইউনিয়নে নূর উদ্দিন আহমদ ও মান্নারগাও ইউনিয়নে অসিত কুমার দাশ।
মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার জায়ফর নগর ইউনিয়নে মোহাম্মদ জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে শ্রীকান্ত দাশ, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে আব্দুল কাদির, গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে শাহব উদ্দিন আহমদ ও সাগরনাল ইউনিয়নে মো. আব্দুন নূর।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আজমীরগঞ্জ ইউনিয়নে মো. মোবারুল হোসেন, বদলপুর ইউনিয়নে সুষেনজিৎ চৌধুরী, কাকাইলছেও ইউনিয়নে মো. মিছবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও শিবপাশা ইউনিয়নে তফছির মিয়া ও জলসুখা ইউনিয়নে মো. শাহজাহান মিয়া।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ১৭ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ অক্টোবর ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ হবে ১১ নভেম্বর।